
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের অদূরেই ব্যস্ততম সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কোথাও দোকানের মালামাল রেখে পথচারীদের চলাচলের পথ সংকুচিত করা হয়েছে, কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর চালা তুলে বসানো হয়েছে হোটেল। এমনকি ফুটপাত দখল করে হোটেলের চুলা ও রান্নার ব্যবস্থা করায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার প্রবণতা। ফলে বলদিটারী থেকে নাগেশ্বরী হেলিপোর্ট মোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল ও সড়কে যত্রতত্র অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন দুই লাইন, কোথাও কোথাও তিন লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বলদিটারী এলাকা থেকে হেলিপোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের ওপর দোকানের পণ্যসামগ্রী রাখা হয়েছে। কোথাও বাঁশ, টিন ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে অস্থায়ী চালা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে ফুটপাতের ওপর হোটেলের রান্নার চুলা বসানো থাকায় পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে সড়কের বিভিন্ন অংশে অটোরিকশা ও ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের পরিবর্তে সড়কের ওপরই সারিবদ্ধভাবে এসব যানবাহন অবস্থান করায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীরা। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় তাদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের চাপের মধ্যে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষের চলাচলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাত পথচারীদের জন্য হলেও এখানে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই। দোকানের মালামাল, হোটেলের চুলা—সবই ফুটপাতের ওপর। বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। আবার সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। এতে কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয় থাকে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। মাঝে মাঝে অভিযান বা সরানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বলে তার অভিযোগ।
ফুটপাত দখল ও সড়কে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টির বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পৌর প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত যদি এভাবে দখল হয়ে থাকে, তাহলে শহরের অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি কী—এ নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের দাবি, ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা, সড়কের ওপর অটোরিকশা ও ইজিবাইক দাঁড় করানো বন্ধ করা এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহনের স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, ফুটপাত দখল এবং সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে শুধু যানজটই নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টিকে শুধু যানজট হিসেবে না দেখে জননিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অটোরিকশার জন্য শৃঙ্খলিত পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা না হলে এ দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে কমানো কঠিন হবে।


