নৌকায় ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন

পেয়ারা চেখে দেখলেন, চাষি-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললেন; মুগ্ধ বাংলাদেশের জলপথ ও গ্রামীণ জীবনে।
ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনি ভীমরুলিতে গিয়ে নৌকায় চড়ে ভাসমান হাট ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় পেয়ারার স্বাদ নেন।
 নৌকায় ভাসমান বাজার ঘুরে এবং পেয়ারা খেয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। এর আগে বরিশাল সফর নিয়ে রাষ্ট্রদূত নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশের মনোরম জলপথের প্রশংসাও করেন।
ভীমরুলিতে পৌঁছে রাষ্ট্রদূত ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে খালের ওপর গড়ে ওঠা পেয়ারা বাজার ঘুরে দেখেন। নৌকার ওপর নৌকা সাজিয়ে পেয়ারা বিক্রি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা এবং খালকেন্দ্রিক স্থানীয় জীবনযাত্রা কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরে ট্রলারে করে স্থানীয় পেয়ারা বাগানেও যান। সেখানে চাষি ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পেয়ারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্থানীয় পেয়ারা চাষিরা রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি চাষিদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং তাদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান। প্রায় এক ঘণ্টা ভীমরুলি এলাকায় অবস্থানের পর তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে ফিরে যান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভীমরুলির ভাসমান বাজার শুধু একটি স্থানীয় হাট নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, নৌপথ ও গ্রামীণ অর্থনীতির অনন্য সমন্বয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের ভাসমান বাজারের ঐতিহ্য শত বছরেরও বেশি পুরোনো। কৃষক ও পাইকাররা নৌকায় করে পণ্য নিয়ে এসে জলপথেই কেনাবেচা করেন।
পেয়ারা মৌসুমে ভীমরুলি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে বাগান থেকে পেয়ারা এনে খালের ওপরই চলে বেচাকেনা। পেয়ারা ছাড়াও আমড়া, লেবুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের কেনাবেচা হয় এই ভাসমান বাজারে।
পুরোনো এক পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে ভাসমান বাজারগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পেয়ারা বিক্রি এবং হাজার হাজার পর্যটকের সমাগমের তথ্য উঠে এসেছে। এতে বোঝা যায়, কৃষিপণ্য বিপণনের পাশাপাশি ভীমরুলি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
ভীমরুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অনন্য ভাসমান বাজার এরই মধ্যে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বিদেশি কূটনীতিকদের এ এলাকায় আগমন ঘটছে। গত ২৭ জুলাই আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সায়দানি ভীমরুলি পরিদর্শন করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেপাল ও ভারতের রাষ্ট্রদূতরাও বিভিন্ন সময়ে এ বাজার ও পেয়ারা বাগান দেখতে এসেছেন বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারও ভীমরুলির পেয়ারা হাট পরিদর্শন করেছিলেন।
কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি
ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার মূলত স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি নৌপথে বাজারজাত করার একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে পেয়ারা বাগান, আঁকাবাঁকা খাল, শত শত নৌকা ও ভাসমান হাট মিলিয়ে তৈরি হয় ব্যতিক্রমী পর্যটন পরিবেশ।
তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন, মানসম্মত খাবার ও অন্যান্য সুবিধার ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয় ও পর্যটকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। ফলে ভীমরুলিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন অবকাঠামো ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সুবিধার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের ভীমরুলি সফর তাই শুধু একটি পর্যটনভ্রমণ নয়; বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি, নৌ-সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও স্থানীয় পর্যটনের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহেরও একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

দিনাজপুরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত ভূমি অধিকার, হত্যার বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ভূমি অধিকার সংরক্ষণ, দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার, আদিবাসী হত্যাকাণ্ডের