
পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে দুর্গোৎসবের আগমনী আবহে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে (বেরোবি) দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপন করেছে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি আর উৎসবমুখর পরিবেশে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা, ভক্তিমূলক সংগীত, ধুনুচি নাচ, ভিডিওচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেরোবির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ওঁ তৎ সৎ—জ্ঞান, সংস্কার ও ঐক্য’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনী ও দুর্গা দুর্গতিনাশিনী বিষয়ক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এসব পরিবেশনায় দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ‘মহালয়া আসলে কী?’ শীর্ষক পর্বে মহালয়ার ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনার বার্তা বহন করে। এ দিন থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার স্তব ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনকে বরণ করে নেওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।
অনুষ্ঠানের ধর্মীয় পর্বে চণ্ডীপাঠের পাশাপাশি বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। ভক্তিমূলক সংগীত ও ধুনুচি নাচে উৎসবের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। সবশেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজন সম্পর্কে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেরোবির সভাপতি কাকলি রায় বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজনের চেষ্টা করেছি। আমাদের ক্যাম্পাসে দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। আয়োজনের কোনো কমতি না রাখার চেষ্টা করেছি। সকালে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ আয়োজন সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি সবাইকে দুর্গাপূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেরোবির সাধারণ সম্পাদক শুভ কর্মকার বলেন, “পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই শুভক্ষণে সবাইকে দুর্গোৎসব ১৪৩৩-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সবার পূজা সুন্দর, আনন্দময় ও উৎসবমুখর হয়ে উঠুক—এ প্রত্যাশা করি।”
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসে মহালয়া উদযাপনের এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি সনাতন সংস্কৃতির চর্চা আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।




