
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দৌলতদিয়ার সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে পাঁচটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সচল রয়েছে মাত্র ৩ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট।
গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে একসঙ্গে একাধিক ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় সীমিত সংখ্যক ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করতে হচ্ছে। এতে ঘাট এলাকায় বাড়ছে যানবাহনের চাপ। নদী পার হতে আসা যাত্রী ও চালকদেরও পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের দুর্ভোগ।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি পারাপার চলছে। নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বাকি পাঁচটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় পারাপার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
নদীতে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ফেরিগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে এবং ঘাটে নিরাপদে ভিড়তে সমস্যায় পড়ছে। এতে ফেরিতে নদী পারাপারে সময়ও বেড়ে যাচ্ছে।
নদী পার হতে আসা কয়েকজন চালক জানান, গত কয়েকদিন ধরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ফেরিগুলো অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে পারাপারে বাড়তি সময় লাগছে। একই সঙ্গে ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যানবাহনের চাপও বাড়ছে।
যাত্রী আলী ইমরান বলেন, “নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। কিন্তু এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়নি। দ্রুত ড্রেজিং করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন পারাপার হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে নাব্যতা সংকট দেখা দিলে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর। তাই দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল রয়েছে।”
এদিকে নাব্যতা সংকটের মধ্যেও এখনো ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না গেলে ফেরি চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে। এতে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ ও যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নৌরুটের গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন এ পথে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়।
এ অবস্থায় নাব্যতা সংকট নিরসনে পরিকল্পিত ভাবে দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু, প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত এবং বন্ধ ফেরিঘাটগুলো পর্যায়ক্রমে সচল করার দাবি জানিয়েছেন চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।





